নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে : রিজভী

জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে। আপনারা যেভাবে নির্বাচন করতে চান, সেই নির্বাচন হবে চৌর্যবৃত্তির নির্বাচন।

তিনি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে এবং সংসদ বহাল থাকলে সেই নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হবে না। সেটি হবে নির্বাচনের নামে ভোটকেন্দ্রে ভোটারবিহীন নির্বাচন, যা শুধু আপনাদের নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা।।

‘নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপির নেত্রী জনগণকে ‘ব্ল্যাক মেইল’ করছেন’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী এসব বলেন।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘সমাবেশের অনুমতি দেয়া সরকারের বিষয় নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়’ ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া রিজভী বলেন, কিন্তু জনগণ জানে, আপনাদের হুকুম ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক পা ফেলতে পারে না। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টার যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে ক্ষমতাসীনদের সভা সমাবেশ করতে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অনুমতি লাগে না। তাহলে আপনার কথায় এটি পরিষ্কার যে, সরকারবিরোধী দলগুলোকে নির্মমতার দ্বারা অবরুদ্ধ করে রাখতেই আপনাদের হুকুমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের আমলে বিরোধী দলগুলোকে বারবার কর্মসূচি করতে না দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এ কারণেই রাষ্ট্র-সমাজ ক্রমশ: অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। সেজন্যই বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল এবং নানা মত ও বিশ্বাসের মানুষরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে ‘জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ অবলম্বন করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্যই দলমত নির্বিশেষে বিএনপির ডাকা ঢাকার সমাবেশ এবং সারাদেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল সফল করতে হবে।

রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ কর্মসূচির নামে গাড়ি ভাঙচুর ও টার্মিনালে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিহত করতে হবে’ শ্রমিক লীগ ও সড়ক পরিবহন নেতাদের এ ধরনের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় তারা সাধারণ পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের হুমকি দিচ্ছেন, যাতে তারা পরিবহন বের না করে। তাদের এ বক্তব্য হুকুমবাদ প্রতিষ্ঠারই বৈশিষ্ট্য এবং গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করতে বেআইনি দাপটের আস্ফালন।

এছাড়া গত পয়লা জানুয়ারি গভীর রাতে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাফফর সিকদার, যুগ্ম সম্পাদক ডা. জুয়েল, ওয়ার্ড সভাপতি মিশকাত হোসেনকে গ্রেফতার এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও বাড়ির সদস্যদের সাথে পুলিশের অশালীন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

Leave a Reply