মার্কিন খবরদারি প্রত্যাখ্যানের সময় এসেছে

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরো একবার সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়লো বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলো। জেরুজালেমকে দখলদার ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা। জংলি আইনের বিরুদ্ধে এটা আইনের শাসনের জয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের দেশগুলো।

এর আগে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেবে না, তাদের মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এটা ছিল সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অধিকারের প্রতি একটি হুমকি। ইসরায়েলও ভেবেছিল তাদের পক্ষে মার্কিন হুমকিই যথেষ্ট হবে। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাদের ঔদ্ধত্য প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববাসী।

ইসরায়েলের অবৈধ দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়ার ইতিহাস আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ বিষয়ে জাতিসংঘকেও তারা বারবার তাদের পক্ষে চালিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা পরিত্যাগের জন্য দরিদ্র দেশগুলোকে সব সময়ই হুমকি দেয় মার্কিন প্রশাসন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বৃহস্পতিবারের ভোটে দেখা যায়, দিনভাগের দুইভাগ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ৩৩টি দেশ ভোট দিয়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে। আর ভোটদান থেকে বিরত ছিল ১৩টি দেশ।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিকে ভাগ করা পরিকল্পনা শুরুর দিকে হাইতি, লাইবেরিয়া ও ফিলিপাইন বিরোধিতা করলেও পরে ওয়াশিংটনের উচ্চ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপের পর তাদের অবস্থান পাল্টে যায়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের পক্ষ থেকে এসব দেশকে সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি স্বীকার করেছেন তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ফরেস্টাল। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদে অন্য দেশের ওপর জবরদস্তি করার কলঙ্কজনক অধ্যায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

Leave a Reply