বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্বিগ্ন না হতে মন্ত্রীর পরামর্শ

 

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত আনা নিয়ে আরাকানের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মিয়ানমারের ধর্ম ও সংস্কৃতিবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থুরা ইউ অং কো। তিনি বলেছেন, নেত্রী অং সান সুচি দেশের ও দেশবাসীর স্বার্থকে সবার আগে অগ্রাধিকার দেবেন। তাতে শরণার্থীদের ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ যা-ই হোক না কেন। রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতে মঙ্গলবার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে বৈঠকে এ অভয় দেন মন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে মিয়ানমারের অনলাইন দ্য ইরাবতী। এতে বলা হয়েছে, সিতওয়েতে অবস্থিত পাথেইন এবং ধাম্মা থুখা মঠ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী থুরা ইউ অং কো।

এ সময়ে তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে মিলিত হন। তাদের তিনি অভয় দিয়ে বলেন, সরকার শুধু ওইসব শরণার্থীকে ফেরত নেবে, যাদের কাছে বৈধ ডকুমেন্ট আছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত শরণার্থী ফেরত নেয়াবিষয়ক যে চুক্তি হয়েছিল, তার অধীনেই এ পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরো আশ্বস্ত করে বলেছেন, নেত্রী অং সান সুচি দেশের স্বার্থ ও আরাকান জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেই তবে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে এমন সব পয়েন্ট দিয়ে শরণার্থীদের ফেরত নেয়া হবে না। তাদেরকে যাচাই-বাছাই করতে বেশি সেন্টার খুলবে না মিয়ানমার। এক্ষেত্রে মাত্র একটি সেন্টার খোলা হবে। এ পর্যায়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুরা অং সান সুচির গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য বলে জানান। তারা আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী যা বলেছেন সে  মতোই যেন সুষ্ঠুভাবে কাজ হয়। এ সময় তারা বলেন, যেসব মুসলিম শরণার্থী নিজেদেরকে ‘রোহিঙ্গা জাতি’ হিসেবে দাবি করবে তাদেরকে রাখাইনে ফেরত নেয়া যাবে না। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের বেশির ভাগ মানুষই রোহিঙ্গা শব্দটি এড়িয়ে চলে। তারা এর পরিবর্তে ব্যবহার করে ‘বাঙালি’। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় রোহিঙ্গারা বাঙালি, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আরো দাবি করেছেন, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হলেই যেন শরণার্থীদের ফেরত আনার কার্যক্রম শুরু হয়। ওদিকে অং সান সুচির মুখপাত্র জাওয়া হতাই এর আগে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে বাংলাদেশ। তাদের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মহল থেকে শ’ শ’ কোটি ডলার আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বিলম্ব করছে।

Leave a Reply