টানা বৃষ্টিতে আবার ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরী

দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। এতে নগরীর এক তৃতীয়াংশ এলাকা আবারও ডুবে গেছে। হাটু ও কোমর পানিতেসড়ক, বাসাবাড়ি ও হাসপাতাল। ভোগান্তিতে পড়েছে কর্মজীবি, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।

অমাবস্যা ঘিরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে উঠায় গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। এরমধ্যে থেমে থেমে কয়েকদফা ভারী বৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রামের নিচু এলাকা ডুবে যায়। এর আগে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ভরা পূর্নিমায় টানা ভারী বর্ষণে ৪-৫ দিন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানিয়েছেন, আজ শনিবার (১২ আগষ্ট) সকাল নয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৮৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামি ২৪ ঘন্টায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহ¯পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরীর বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, চকবাজার কাপাসগোলা, ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহরা, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি জমে গেছে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। চকবাজার, কাপাসগোলা ও বহদ্দারহাটের বিভিন্ন দোকান ও বাসায় পানি ঢুকেছে।

বাদুরতলার বাসিন্দা ইসহাক মিয়া জানান, বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁদের বাসায় পানি ঢুকছে আর নামছে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই ঘরে হাঁটু পানি উঠে যায়। বৃষ্টি থামলে পানি নেমে যায়। এভাবে দুই দিনে অন্তত ৫/৬বার পানি ঢুকেছে বলে তিনি জানান।

একই অবস্থা নগরের বাকলিয়া ডিসি রোড ও কাপাসগোলা এলাকার। এখানে বিভিন্ন বাসা ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে কয়েক দফা পানি ঢুকেছে। স্থানীয় দোকানদার হাবিবুর রহমান বলেন, কাল থেকে কয়েকবার দোকান পরিষ্কার করেছি। বারবার পানি ঢুকে অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বাকলিয়ার ডিসি রোডের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, শুক্রবার রাতে ঘরে পানি ঢোকে। বাড়তে বাড়তে কোমর পর্যন্ত হয়। সব আসবাব, কাপড়-চোপড়, ঘরের মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে গেছে। ঘরের মহিলা আর শিশুদের আতœীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এখন আমি একা পাহারা দিচ্ছি।

চান্দগাঁও বি-ব্লকের বাসিন্দা আনিসুল হক জানালেন, বি-ব্লকের নিচ তলার প্রায় প্রতিটি ভবনে পানি ঢুকেছে। বহদ্দারহাট মোড়ে পানিতে থই থই করছে। পানির কারনে ঘর থেকে কাজে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে যানবাহন খুবই কম চলাচল করেছে। দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র লোকজনের উপস্থিতি কম। বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। যানবাহন না পেয়ে সড়কের মোড়ে মোড়ে পানির মধ্যে দাড়িয়ে রয়েছে যাত্রী সাধারণ।

নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় সরকারি কর কমিশন কার্য্যালয়ের কর্মকর্তা সালাউদ্দিন লাভলু জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে কয়েকদফা ভারী বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার সবকটি সড়কে হাটু পরিমান পানি জমে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও মানুষ নৌকায় চলাচল করছে। এছাড়া এসব এলাকার বাসাবাড়িতেও পানি থই থই করছে।

Leave a Reply