অনিদ্রা এড়াতে ত্যাগ করুন এই বদভ্যাসগুলো

ঘুম না হওয়া একটি জটিল সমস্যা। কম ঘুম মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। সারা দিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে ওজনাধিক্য, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

ঘুম ভালোভাবে না হওয়ার জন্য কিছু কারণ রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক আপনার সাথে কয়টা মিলে-

# মানসিক চাপ
মানসিক চাপ ঘুম না হওয়ার জন্য দায়ী। মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ ঘুমের ক্ষতি করে। এটি প্রাথমিক ইনসোমনিয়া তৈরি করে। তাই মানসিক চাপ কমাতে ঘুমের আগে, হালকা ধাঁচের বই পড়ুন, হালকা ধাঁচের গান শুনুন। ধ্যান করুন বা গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। ঘুম ভালো হবে।

# ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার
বর্তমান সমাজে ঘুম না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যবহার। এগুলো ঘুম তৈরির হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ঘুমের আগে টিভি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, যেকোনো স্ক্রিন দেখা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে; নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

# ঘুমের আগে ধূমপান
ঘুমের আগে ধূমপান করা ঘুমকে ভীষণ ব্যহত করে। মাথাকে শিথিল রাখার জন্য অনেকে ধূমপান করে। তবে এতে লাভ নয়, উল্টো ক্ষতি হয়। গবেষণায় বলা হয়, এটি ঘুমের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে। ধূমপান ঘুম কমিয়ে দেয়। তাই ধূমপান ছেড়ে দিন, ঘুম ভালো হবে।

# ঘুমের আগে অতিরিক্ত মদ্যপান
ঘুমের আগে অতিরিক্ত মদ্যপান ঘুমের ক্ষতি করে। এটি ঘুমচক্রের ব্যাঘাত ঘটায়। এতে পরের দিন সকালে অবসন্ন ও ক্লান্ত লাগে।

# ঘুমের আগে কফি পান
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে রাতে খাবারের পর কফি পান করা। ভালো ঘুমের জন্য এই অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। ঘুমের আগে ক্যাফেইন জাতীয় বেভারেজ গ্রহণ (যেমন : চা, সোডা) ঘুমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই দিনের বেলা কফি পান করুন, রাতে নয়।

# রাতে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া
রাতে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ কিন্তু ভালো নয়। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ঘুমের ক্ষতি করে। তাই রাতের খাবারে বেশি আঁশ রাখুন এবং চর্বি জাতীয় খাবার ছাড়ুন। আঁশযুক্ত খাবারের জন্য সবজি খান।

# শোবার ঘরে উজ্জ্বল আলো
ভালো ঘুমের জন্য অন্ধকার শোবার ঘর ভালো। আলো মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন ব্যহত করে। এতে ঘুম কম হয়। এমনকি মোবাইল ফোনের আলো বা হালকা আলোও ঘুমের ক্ষতি করে। তাই ঘুমের আগে অবশ্যই শোবার ঘরের বাতি ভালোভাবে বন্ধ করে নিন। জানালা দিয়ে বেশি আলো এলে ভারি পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।

# দেরিতে রাতে খাবার খাওয়া
রাতে কিংবা দুপুরে যাই বলি না কেন নির্ধারিত একটি সময়ে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর আপনি যদি কাজের চাপে কিংবা গড়িমসি করে হলেও অসময় বা অনিয়মিতভাবে আপনার দুপুরের বা রাতের খাবার খান তবে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমনকি রাতে এই অভ্যস আপনার রাতের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটাবে। ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া ভালো।

# শেষ রাতে লেবু চা খাওয়া
লেবু চার রয়েছে অনেক গুন। এটা অনেক সময় ঔষধি হিসেবে ও কাজ করে।তবে রাতে খাওয়ার পর ঘুমানের আগে লেবু চা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ লেবু চা আপনার মানসিক উদ্দীপককে চাঙ্গা করে দেয়। আর এ বিষয়টি ঘুমের আগে দরকার হয় না। তাই ঘুমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এ জন্য এ অভ্যাসকে পরিহার করা ভালো।

Leave a Reply