‘অভিশংসিত হবেন ট্রাম্প’

Hilary Clinton

বিষয়টি অনেকটা অপ্রত্যাশিত। নিজেকে আর সংবরণ করতে পারলেন না প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া হিলারি ক্লিনটন। তিনি ইঙ্গিত দিলেন বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে।

এফবিআইয়ের পরিচালক পদ থেকে জেমস কমি’কেজ অপসারণ করার পর ডনাল্ড ট্রাম্প চতুর্মুখী আক্রমণের মুখে রয়েছেন। রাজনৈতিক বোদ্ধারা এরই মধ্যে মত দিয়েছেন তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পথেই হাঁটছেন। যে কারণে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হয়েছিল সেই একই ধারা অনুসরণ করছেন ট্রাম্প।

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন হিলারি ক্লিনটনও। ১৯৬৯ সালে তিনি ওয়েসলি কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশটন সম্পন্ন করেছিলেন। সেখানে গ্রাজুয়েটদের এক অনুষ্ঠানে হিলারি বলেছেন, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আমাদের ক্ষোভ ছিল। আমরা উদ্বিগ্ন এমন একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে, যাকে বিচারে বাধা সৃষ্টির জন্য অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে। তার (ট্রাম্প) বিরুদ্ধে (রাশিয়া কানেকশনের) তদন্তে থাকা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি ( জেমস কমি) কে তিনি বরখাস্ত করেছেন। (এর মাধ্যমে তিনি বিচারে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে তুলনা করার হলে ওয়েসলি কলেজের ওই অনুষ্ঠানস্থল উল্লাসে ফেটে পড়ে। ডেমোক্রেটরা ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন চান তা এটাই প্রথম নয়। ট্রাম্পকে বরখাস্ত করার জন্য অভিশংসিত করা হতে পারে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাপিটল হিলে।

সেই সুরে সুর মিলিয়েছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানের জাদরেল নেতা সিনেটর জন ম্যাককেইন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কেলেঙ্কারি ওয়াটারগেটের সমান ও একই মাত্রার। ফলে ডেমোক্রেটরা হালে পানি পেয়ে গেছেন। তারা বিভিন্ন ভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্পকে। তাই ওয়েসলি কলেজের ওই অনুষ্ঠানে হিলারি জোরালো গলায় বললেন, যখন আপনারা গ্রাজুয়েট হচ্ছেন তখন সত্যের অপলাপ হচ্ছে। আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি (এমন অপরাধ) অস্বীকার করা হচ্ছে।

নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে তারা অন্য প্রসঙ্গে কথা বলছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়েও সমালোচনা করেন হিলারি। ওই প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাত সহ বিভিন্ন খাতে অনেক বেশি অর্থ কতনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি প্রতিবন্ধকতা বলে আখ্যায়িত করেছেন হিলারি। বলেছেন, এতে আমাদের মধ্যে যারা খুব বেশি বিপন্ন সেই সব মানুষ অকল্পনীয় দুর্গতির শিকার হবে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ অনেক খাতে স্বল্প বরাদ্দ রাখারও সমালোচনা করেন তিনি।

Leave a Reply