আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

আইনিউজ১৬ রিপোর্ট ::  আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল, অবরোধ বা ধর্মঘট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- সেটি জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

দুই চালকের সাজার রায়ের প্রতিবাদে সারা দেশে শ্রমিকদের ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ এই রুল জারি করে।

যারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে ধর্মঘট ডাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব‌্যবস্থা নেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, বিআরটিএ ও বিআরটিসির চেয়ারম‌্যান, পুলিশের আট বিভাগের ডিআইজি, সড়ক পরিবহন কর্মচারী ফেডারেশন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং খুলনা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তিন সপ্তাহের মধ‌্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তাদের।

এই প্রেক্ষাপটে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদ বুধবার হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ‌্যে রাস্তায় গণপরিবহন চালু করার পাশাপাশি ওই সময়ের মধ‌্যে লিখিতভাবে ধর্মঘট প্রত‌্যাহারের ঘোষণা দিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।

ওই সময়ের মধ‌্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে গাড়ি চলাচল শুরু না হলে ধর্মঘটী মালিকদের গাড়ি জব্দ করে তা প্রশাসনের মাধ‌্যমে লিজ দিয়ে পরিচালনা এবং যেসব চালক গাড়ি চালাতে অস্বীকার করবেন, তাদের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচারিক আদালতে দুই চালকের সাজার পর ধর্মঘট ডেকে জনজীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে, জনগণের স্বাধীন চলাচলের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এসব বিবেচনা করে রিটটি দায়ের করা হয়েছিল।

‘শুনানিতে বলেছি, সংবিধানের অধীনে গঠিত আদালত যদি কোনো রায় দেয়, তাতে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আপিল করতে পারে’। কিন্তু তারা আপিল না করে রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডেকে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। সমস্ত মানুষকে হয়রানি করছে।

এ আইনজীবী বলেন, তারা আদালতের কাছে চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ার কথা জানালে তিনটি বিষয় আর উপস্থাপন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় গত মাসের শেষ দিকে জামির হোসেন নামের এক বাস চালকের যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়। এর প্রতিবাদে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত রোববার শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট।

সোমবার দুপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও ওইদিন সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে মীর হোসেন নামের এক চালকের ফাঁসির রায় হলে পরিবহন শ্রমিক নেতারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি দেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই ধর্মঘটে সারা দেশে সড়ক যোগাযোগ ব‌্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে এক জেলা থেকে অন‌্য জেলায় যেতে না পেরে বিপাকে পড়ে বহু মানুষ। পণ‌্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েন ব‌্যবসায়ীরা।

বুধবার ঢাকায় নগর পরিবহনের গাড়িও বন্ধ রাখা হলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। যাত্রাবাড়ীতে রাস্তা আটকে রিকশা ও অটোরিকশা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা যায়। গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় পরিবহন শ্রমিকরা।

Leave a Reply