ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করলো যুবলীগ নেতার ভাই

 

আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম শিপু। ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুবলীগ নেতা (কোন পদে নেই) নুর মোস্তফা টিনুর ছোট ভাই শিপু পুরো ছিনতাই ঘটনার বর্ণনা আদালতে দিয়েছেন। জবানবন্দিতে শিপু ছিনতাইয়ের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকার কথা স্বীকার করার ছাড়াও পুলিশ তার হেফাজত থেকে ১ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে বলে স্বীকার করেছে। গতকাল রোববার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালতে এ স্বীকারোক্তি দিয়েছে শিপু। সন্ধ্যা ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত একঘন্টা ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে জবানবন্দি রেকর্ড হয়। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, চকবাজার কাতালগঞ্জ এলাকায় ৫ লাখ টাকা ছিনতাই মামলার আসামি হিসেবে নুরুল আলম শিপু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে দিয়েছে। এর বাইরে বিস্তারিত আর কোন তথ্য আমার কাছে নেই।

প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি চকবাজার থানা ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজি মোহাম্মদ সিরাজ উল্ল্যাহ। শিপুর বড় ভাই নূর মোস্তফা টিনু নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। এদিকে ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবির অধ্যুষিত চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি মহসিন কলেজ দখলে নেয় ছাত্রলীগ। ওই সময় নগর ছাত্রলীগের সাথে টিনু ও তার অনুসারিরাও ছিল। এরপর দুই কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে নগর ছাত্রলীগের সম্পাদক নুরুল আজিম রণির অনুসারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘাতে জড়ায় টিনু অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি অংশ। দুইপক্ষের এ সংঘাতের কারণে দুই কলেজে প্রায়শই ঘটছে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা। সম্প্রতি টিনু যুবলীগের হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর গ্রুপের হয়ে কাজ করছেন। জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টায় নগরীর কাতালগঞ্জ বৌদ্ধ বিহারের সামনে থেকে ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলি গ্রামের সিরাজুল হাকের ছেলে নুর উদ্দিন ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, উত্তরা ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে টেম্পোতে করে যাবার সময় কাতালগঞ্জ নবপন্ডিত বিহারের সামনে ৩৪ জন যুবক টেম্পোর গতিরোধ করে। এদের মধ্যে একজন ছিনতাইকারী নুর উদ্দিনের শার্টের কলার ধরে টেম্পো থেকে জোর করে নামিয়ে ফেলে। অন্য দুই যুবক নুরকে মারধর করে হাতে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগ ও মোবাইল সেট কেড়ে নিয়ে কাতালগঞ্জ চার নম্বর রোডের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ অহিদুল ইসলাম ওরফে আরিফ ও চান মিয়া ওরফে মামুন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রমতে, আরিফ ও মামুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নুরুল আলম শিপুকে শনিবার রাতে নগরীর মক্কি মসজিদের সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শিপু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

 সূত্র :আজাদী

 

Leave a Reply