আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে আনান কমিশন যাওয়ার পর !!

 

 

 আইনিউজ১৬ রিপোর্ট :: মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে (আরাকান প্রদেশ) সান্ধ্য আইন ও সেনা অভিযান প্রত্যাহার করার পরও সেখান থেকে রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববারও উখিয়ার বালুখালী শিবিরে এসেছে ৮টি পরিবার এবং টেকনাফের লেদায় ৬টি পরিবার। গতমাসের শেষদিকে আনান কমিশনের প্রতিনিধি দল শিবির ঘুরে যাওয়ার পর নতুন করে কমপক্ষে ৫ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বালুখালী শিবিরে গিয়ে দেখা যায়, নতুন আসা বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার বনাঞ্চলের ধারে ঘর তুলছে। পলিথিন, বাঁশ ও ঝোঁপঝাড় দিয়ে তৈরি করা এসব বস্তি ঘরে গাদাগাদি করে বাস করছে নারীপুরুষ ও শিশুরা। বালুখালী শিবিরে গত মাস পর্যন্ত প্রায় ৯ শ রোহিঙ্গা পরিবারের ৫ হাজার মানুষ বসবাস করত। কিন্তু গতকাল রোববার পর্যন্ত এ শিবিরে রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যা ১৩ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আবছার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আরাকানে কার্ফ্যু ও সেনা অভিযান প্রত্যাহার হওয়ার পরও রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (গতকাল) বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৮টি রোহিঙ্গা পরিবার এসেছে বালুখালী শিবিরে।’ চলতি মাসে বালুখালীতে অন্তত চার শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার এসে জড়ো হয়েছে বলে তিনি জানান। একই কথা জানান বালুখালী ও লেদাতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের যাওয়ার নাম নেই। আবার আসার স্রোত থামার লক্ষণও নেই।’ গতকালও বালুখালী ও লেদাতে কমপক্ষে ১৪টি নতুন রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জাকির বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজদেশে ফিরে যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই রোহিঙ্গা আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রোববারও বেশ কিছু রোহিঙ্গা কুতুপালংএ আসার খবর তিনি শুনেছেন বলে জানান।

টেকনাফের লেদার বাসিন্দা মোচ্চাক সওদাগর জানান, বাড়ি থেকে রাচ্চায় বের হলেই দেখা যায় সীমান্ত পেরিয়ে তল্পিতল্পা নিয়ে রোহিঙ্গাদের আসতে। রোববারও বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে লেদা টালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে বলে তিনি জানান।

কুতুপালং আনরেজিস্টার্ড শিবিরের বাসিন্দা নুর ফাতেমা জানান, ‘গত মাসের শেষ দিকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিচ্ছে এবং সে পরিচয়পত্র নিলে অনেক সুযোগসুবিধা পাওয়া যাবেএমন প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে বড়জোর হাজার খানেক রোহিঙ্গা ছবি তুলতে মিয়ানমারে গিয়েছিল। কিন্তু পরে তাদের প্রায় সকলেই পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে এসেছে।’

জানা যায়, গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নানা সুযোগসুবিধা সম্বলিত স্মার্ট কার্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়ে তাদের ছবি তুলে। এরপর তাদের হাতে গছিয়ে দেয়া হয় ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড বা এনভিসি। এই কার্ডে রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে আসা ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’ হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সচেতন রোহিঙ্গারা এই কার্ড প্রত্যাখ্যান করলেও অজ্ঞতার কারণে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা এ কার্ড গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গা নেতারা মনে করেন, তাদেরকে শরণার্থী শিবিরে বন্দী করার জন্য এটি মিয়ানমার সরকারের সর্বশেষ চক্রান্ত। পাশাপাশি বাংলাদেশের সচেতন জনগণও মনে করে রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’ সাজাতে এটি মিয়ানমার সরকারের নতুন কৌশল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ অক্টোবর পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে আসে বলে জাতিসংঘের হিসাবে বলা হয়।

 

Leave a Reply